বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত কয়েক মাসে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বছরের শুরুতে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ছিল ৫ হাজার ৬০০ ডলার, যা এখন ৪ হাজার ৩৫০ ডলারের আশপাশে নেমে এসেছে।
দাম কমার পেছনে মূলত দুইটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নীতির ফলে সুদের হার বাড়ানোর ফলে মানুষ সোনার দিকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের স্বর্ণের রিজার্ভ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে। নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স ইতোমধ্যে তাদের সোনা দেশে ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে সতর্কতার ফল।
বাংলাদেশে সোনার দাম গত দুই বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, রাশিয়া সোনা বিক্রি করছে, অন্যদিকে চীন প্রতি মাসে সোনা কিনছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সোনার দাম কমার সম্ভাবনা নেই। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রতি বছর গড়ে এক হাজার টন সোনা জমা করছে। গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাবে।
বিশেষজ্ঞ ড. আহসান হাবীব জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতার সময় মানুষ সোনার দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই কারণে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য সোনা কেনা আরও কঠিন হতে পারে।