শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন থেকে উচ্চবিত্তের নাভিশ্বাস

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন থেকে উচ্চবিত্ত সকলেই বিপাকে পড়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন থেকে উচ্চবিত্তের নাভিশ্বাস

বাংলাদেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লাখে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে এক কেজি সরু চালের দাম ৭০ টাকার ওপরে এবং বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ২০০ টাকা লিটার। গরুর মাংসের কেজি ৮৫০ টাকা, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ভারী হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর করাইল বস্তিতে বাস করা খাদিজা আক্তার জানান, তার সংসার চলে বাসের হেল্পার স্বামীর আয়ে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলসহ এক রুমের ভাড়া ১২ হাজার টাকা, যা গত বছর ছিল ১০ হাজার টাকা। ফলে মাসের শেষে তাদের জন্য টাকা বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপরও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ পড়েছে। আজিমপুরে ব্যবসায়ী মিঠু সরদার জানান, তার পরিবারে চারজন সদস্য থাকলেও বাসাভাড়া, খাবার খরচ ও সন্তানের লেখাপড়া মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উচ্চবিত্তদেরও মূলস্ফীতির চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। তাদের আয় ও খরচ দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, যারা তিন ডলারের কম আয় করেন, তারা দরিদ্র। বাংলাদেশে এ ধরনের মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লাখ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে নতুন করে প্রায় ১২ লাখ মানুষ ঝুঁকিতে পড়েছে।

ক্যাব কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকারকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা এ পরিস্থিতিতে শ্রেণি ভিত্তিক পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন