ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে পৌঁছেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির পর প্রায় ৩৪১টি পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী বেঞ্জামিন পলুস অক্টাভিয়ানুস জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে ৩৬ জন গুরুতর এবং ৭৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। অনেকেই ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে ত্রিপল টাঙিয়ে রাত কাটাচ্ছেন।
মাউমেরে শহরের একটি হাসপাতালের বাইরেও আহতদের চিকিৎসার জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে মাউমেরের বেশ কয়েকটি এলাকার সড়ক বন্ধ হয়ে যায়, তবে উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ২০টি পেট্রোল স্টেশনও কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।