বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি রাজস্ব ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈদেশিক চাপকে দেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, এসব সংকট মোকাবিলায় রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, কঠোর মুদ্রানীতি এবং ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হবে। আগামী মাসগুলোতে নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার ও সংস্কার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে পাঁচ দিনের আলোচনা শেষ করেছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, চলমান সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তি তৈরিতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সরকারের পর্যালোচনা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এবারের সফরে আইএমএফ সরকারের আর্থিক নীতি, বিনিময় হার ব্যবস্থা, মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাত সংস্কারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে।
তিনি আরও জানান, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা জোরদার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কার এগিয়ে নিতে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে আইএমএফ। সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচিতে তিন বছরের জন্য সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণের প্রস্তাব রয়েছে।
সরকার ভবিষ্যতে আইএমএফের সঙ্গে কোনো ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়ার বিষয়ে ভাবছে। এ ব্যাপারে সরকারে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।