সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহল। তাদের মতে, কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে শারার সরকার বড় আকারের স্থায়ী সেনাবাহিনী গঠন ও নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহে মনোযোগী হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্ট জানায়, দীর্ঘ ১৫ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়ার অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিবর্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে শারার সরকার।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, শারার সামরিক পরিকল্পনার লক্ষ্য হতে পারে লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের ইরানপন্থি শিয়া মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া। তারা মনে করছে, শারা উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ইসরায়েলি সূত্র জানায়, সিরিয়া সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকেও সহায়তা পাচ্ছে। জার্মানির নেতৃত্বে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ শারা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে, যার উদ্দেশ্য সিরিয়া থেকে শরণার্থীদের প্রবাহ কমানো।
এদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আরব দেশ শারাকে নিজেদের ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে। এসব দেশ সিরিয়ায় অর্থ বিনিয়োগ করছে এবং শারাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, শারার নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং তাকে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো থেকে দূরে রাখা তাদের উদ্দেশ্য। তুরস্কের সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্কও জটিল হয়ে উঠেছে, এবং শারা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের হাতে সিরিয়ার ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ দিতে চাইবেন না।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলা শারার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তাদের মতে, শারার লক্ষ্য হলো সিরিয়াকে একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করা, যা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহল জানায়, শারার ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতে ইসরায়েল একটি সমঝোতার ঐতিহাসিক সুযোগ হারিয়েছে। এখন সিরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং এর সক্ষমতা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে, তবে এর সময় বা উপায় সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি।