সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত আঞ্চলিক জোট ‘মক্কা অ্যালায়েন্সে’ যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সিরিয়া। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি।
শনিবার (১ নভেম্বর) মানামা ডায়ালগ ২০২৬-এর আঞ্চলিক নিরাপত্তাবিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মক্কা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করতে আলোচনা চলছে। সিরিয়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা জোরদারে দামেস্কের সমর্থন রয়েছে।
আল-শাইবানি বলেন, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তিনি ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সিরিয়ার সরকারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
আল-শাইবানি বলেন, প্রতিটি দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব পক্ষের সমর্থন থাকা প্রয়োজন। তিনি আঞ্চলিক সংকট নিরসনে রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।
এদিকে, সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে আল-শাইবানি অভিযোগ করেন, দুই বছরেরও কম সময়ে এক হাজারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বরের আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গোলান মালভূমি সম্পর্কে বলেন, এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দামেস্কের আলোচনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।