বরিশাল, যাকে ‘বাংলার ভেনিস’ বলা হয়, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যপীড়িত বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বরিশালে দারিদ্র্যের হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২৭ জনই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।
বরিশালের অর্থনীতি একসময় কৃষি ও বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে কর্মসংস্থানের অভাব ও শিল্পায়নের অভাবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পরিবর্তিত হয়েছে। বরিশালের স্থানীয়দের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে, যা তাদের জীবিকার সন্ধানে স্থানান্তরের ইঙ্গিত দেয়।
বরিশাল জেলার কলকারখানার সংখ্যা মাত্র ৪০৯টি, যা শিল্পায়নের অভাবকে নির্দেশ করে। ভোলার মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস থাকা সত্ত্বেও শিল্প গড়ে উঠেনি, কারণ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বিনিয়োগের অভাব রয়েছে।
কৃষি খাতও চাপে রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরিশালে আউশ ধানের উৎপাদন ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন থেকে কমে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে নেমে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং লবণাক্ততা কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিবিএসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা, যা দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ কারণে স্থানীয়রা কাজের খোঁজে বরিশাল ছেড়ে যাচ্ছে।
তবে বরিশালের উন্নয়নের সম্ভাবনাও রয়েছে। ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন এবং পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যটনের উন্নয়নও এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে পারে।
বরিশালের দারিদ্র্যের সমস্যা একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অভাবের ফল। যদিও সম্ভাবনা রয়েছে, বাস্তবায়নের জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।