লালমনিরহাটের কৃষকদের জন্য সোনালি আঁশের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। খরা, অতিবৃষ্টি এবং রোগবালাইয়ের কারণে পাটের ফলন কমেছে, পাশাপাশি বাজারে দামও হ্রাস পেয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
এদিকে, ঝিনাইদহে কিছুটা ভালো ফলন হলেও নতুন পাট বাজারে ওঠার পর দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর চরাঞ্চলে ব্যাপক পাটের আবাদ হলেও মৌসুমজুড়ে আবহাওয়ার প্রতিকূলতা ফলনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন জানান, চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫ হেক্টর বেশি। তবে অতিবৃষ্টির কারণে ফলন কিছুটা কমেছে বলে তিনি জানান।
ঝিনাইদহে পাট কাটার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। শুরুতে মণপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৭০০ টাকা দাম পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় নেমে এসেছে। যদিও বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মণ ফলন হয়েছে।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, 'এবার পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং কৃষকও ভালো দাম পাচ্ছেন।' তবে বাজারদরের অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।