বাগেরহাটের মোংলার শতবর্ষী এয়াকুব আলী সরদার ও প্রায় ৯০ বছর বয়সী পাগলি বেগম তাদের পঙ্গু মেয়ের দেখভাল করছেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই দম্পতি বড় মেয়ে আবেদা খাতুনের অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যারবাহনের চেচানের কুল গ্রামের বাসিন্দা এয়াকুব আলী সরদার ও পাগলি বেগম। তাদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে আবেদা সবার বড়। মাত্র সাত বছর বয়সে এক দুর্ঘটনায় কোমরের হাড় ভেঙে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান তিনি। ৪৭ বছর ধরে বিছানায় শুয়ে জীবন কাটাচ্ছেন আবেদা।
এয়াকুব আলী সরদার বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সময়মতো উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় ৪৭ বছর ধরে মেয়েটিকে শিশুর মতো দেখভাল করতে হচ্ছে।’
পাগলি বেগম জানান, ‘আমরা তো একদম শেষ বয়সে চলে এসেছি, শরীরে আর ক্ষমতা নাই। সাত বছর বয়স থেকে মেয়ে বিছানায় পড়ে আছে। বৃষ্টি হলে ঘর ভিজে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটির বসবাসের পরিবেশ অত্যন্ত করুণ। তাদের জরাজীর্ণ ঘরটি বৃষ্টির সময় ফুটো দিয়ে পানি পড়ে যায়, ফলে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়।
বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উদয় শংকর বিশ্বাস বলেন, ‘আবেদা খাতুনের পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সমাজের বিত্তবানদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’
এয়াকুব আলী ও পাগলি বেগমের একটাই আকুতি—তারা না থাকলেও পঙ্গু মেয়ে আবেদার যেন মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই থাকে।