মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার অনন্য উদাহরণ শেরপুরে

৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা করে যাচ্ছেন সাজু শেখ।

৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার অনন্য উদাহরণ শেরপুরে

শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সাজু শেখ ও নূরজাহান দম্পতি ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন। ৮৫ বছর বয়সী সাজু শেখ, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার মধ্যেও গত সাত বছর ধরে অসুস্থ স্ত্রী নূরজাহানের সেবা করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজু শেখ ও নূরজাহানের বিয়ে হয় প্রায় ৭০ বছর আগে। সংসার চালানোর জন্য সাজু রিকশা চালাতেন এবং কখনো কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। তাদের সংসারে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তবে বর্তমানে তাদের সন্তানদের জীবিকা নির্বাহের জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সাত বছর আগে নূরজাহান গুরুতর আহত হলে তার চিকিৎসা করাতে না পারায় তিনি হাঁটতে বা বসতে পারছেন না। এ অবস্থায় সাজু শেখ নিজের হাতেই স্ত্রীকে সেবা করছেন। তিনি বলেন, “আমি ক্লান্ত নই, স্ত্রীকে সেবা করতে আমার দায়িত্ব।”

সাজুর ছোট ছেলে দীন ইসলামের স্ত্রী ক্যানসারে মারা যাওয়ার পর দীনও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বড় ছেলে এবং অন্য ছেলে ঢাকায় থাকলেও পরিবারের দেখাশোনা করতে পারছেন না।

পুত্রবধূ মনিজা বেগম জানান, “আমরা খুব কষ্টে আছি। স্বামীও অসুস্থ, শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখাশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না।” স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, “সাজু শেখ তার স্ত্রীর সেবা করছেন, তবে বয়স্ক ভাতা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়।”

শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. হযরত আলী পরিবারটির সঙ্গে দেখা করে আর্থিক সহযোগিতা করেন। জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিনও পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং প্রাথমিকভাবে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাজু শেখকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে, তবে অসুস্থ নূরজাহানের চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

অসহায় এই দম্পতির চিকিৎসা ও জীবনযাপনে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন