ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কনসার্টের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। কলেজের পেছনে ছাত্রাবাসের ভেন্যুতে এই অনুষ্ঠান হবে, যেখানে মূল কলেজের সামনের মাঠে শুধুমাত্র আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে দুটি ভেন্যুতে। শুক্রবার কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ সদর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে কনসার্টের বিরুদ্ধে পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করে। এর পর শনিবার সংসদ সদস্য কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ নেতাদের সাথে আলোচনা করেন, যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, "আমাদের কলেজে সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে। ধর্মীয় মূল্যবোধকে আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখি, কিন্তু সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাদের এই উদ্যোগ।" অন্য একজন শিক্ষার্থী বলেন, "বহিরাগত কেউ এসে কোনো হস্তক্ষেপ করার প্রশ্নই আসে না।"
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন জানান, "আমরা কখনো কনসার্ট বলি নাই। আমাদের দাওয়াতপত্রে নবীন বরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ রয়েছে।" তিনি নিশ্চিত করেন যে, কনসার্ট হবে না এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই হবে।
এদিকে, গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ৩০ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।