সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য, অনলাইন সেবায় ভোগান্তি অব্যাহত

বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য ও অনলাইন সেবায় ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য, অনলাইন সেবায় ভোগান্তি অব্যাহত

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে দালাল ছাড়া সেবা পাওয়া যাচ্ছে না, এমন অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তাদের মতে, দালালদের দৌরাত্ম্য ও হয়রানি কমাতে অনলাইন সেবা চালু হলেও, কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বারবার অফিসে আসতে হচ্ছে।

সেবাপ্রার্থীরা জানান, যানবাহন ও মোটরসাইকেল নিবন্ধন, রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএ কার্যালয়ে আসা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানির কারণে অনেকেই দালালদের সাহায্য নিতে বাধ্য হচ্ছেন। লক্ষ্মীপুরে গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ফি'র বাইরে লাইসেন্সের জন্য সাত থেকে ১০ হাজার এবং মোটরসাইকেল নিবন্ধনের জন্য পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “টাকা-পয়সা দিলে সবকিছু সম্ভব। যারা টাকা দিচ্ছে না, তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে।” কিশোরগঞ্জের বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা অনেকের একই অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জেলা বিআরটিএ কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সবকিছু সরকারের সঠিক নিয়মে চলছে। কিশোরগঞ্জের বিআরটিএ সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “এখন লাইসেন্স করার জন্য অফিসে আর আসতে হয় না। সব পরীক্ষা দিলে ওইদিনই অনলাইনে রেজাল্ট হয়ে যায়।”

রাজশাহী বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, নিয়ম মেনে অনলাইনে আবেদন করেও কাজ শেষ করতে বারবার অফিসে আসতে হয়। ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই দালালের সাহায্য নিচ্ছেন।

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় অফিসের পরিচালক পার্কন চৌধুরী বলেন, “আমাদের ভ্রাম্যমাণ টিম এবং জেলা প্রশাসনের টিম রয়েছে, যাচাই-বাছাই চলছে। উচ্চ পর্যায়ে এ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।”

সেবাপ্রার্থীরা দালালমুক্ত পরিবেশের পাশাপাশি দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন