বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
স্পেনে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৩০, রেলপথের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ স্পেনে ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ৪৬, উদ্ধার কার্যক্রম চলছে ঘূর্ণিঝড় আরনাবের প্রভাবে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডব, সতর্কতা জারি সুদানের ন্যালে ড্রোন হামলায় ২১ নিহত, ৪০ আহত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: অতি প্রবল অবস্থায় পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরি চাপায় নিহত ৫, আহত ৪ সাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে ফ্রান্সে জাতিগত হামলায় নিহত ১, আহত ৫, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা বাড়ছে জর্ডানে গির্জায় সন্ত্রাসী হামলায় ৭ জন নিহত, ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
জাতীয়

১০ মাস ধরে বিচারকহীন সাদুল্লাপুর আদালতে ঝুলে আছে ৪ হাজার মামলা

সাদুল্লাপুর আদালতে ১০ মাস ধরে বিচারক নেই, প্রায় ৪ হাজার মামলা ঝুলে আছে।

১০ মাস ধরে বিচারকহীন সাদুল্লাপুর আদালতে ঝুলে আছে ৪ হাজার মামলা

গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে গত ১০ মাস ধরে স্থায়ী বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে বিচারক বদলির পর থেকে এই সংকট সৃষ্টি হয়। আদালতটিতে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা দেওয়ানি, পারিবারিক ও ভূমি বিরোধের অন্তর্ভুক্ত।

বিচারক সংকটের কারণে এসব মামলার কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আদালতে নির্ধারিত তারিখে এসে অনেক বাদী-বিবাদীকে শুধু হাজিরা দিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে, ফলে মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং অর্থ ও মানসিক ভোগান্তি বাড়ছে। আদালত সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বিচারকের পদ শূন্য থাকলেও স্থায়ী বিচারক নিয়োগে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর আদালতের বিচারক আবু রায়হান বদলি হয়ে কুড়িগ্রামে যোগদান করার পর থেকে এই সংকট তৈরি হয়। অতিরিক্ত দায়িত্বে বিচারক থাকলেও নিজ আদালতের কাজের চাপ থাকার কারণে নিয়মিত শুনানি ও নিষ্পত্তি ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে পলাশবাড়ী সহকারী জজ আদালতের বিচারক সাদুল্লাপুর আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

প্রতিদিনের কার্যতালিকায় ৩০ থেকে ৪০টি মামলার শুনানি নির্ধারিত থাকে। কিন্তু স্থায়ী বিচারক না থাকায় অনেক মামলার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর ফলে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে থাকা মামলাগুলো আটকে আছে এবং জরুরি নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও সিদ্ধান্ত পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের।

সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা ফিহাদ সরকার গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিচারক না থাকার কারণে বিচারিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং হাজারো বিচারপ্রার্থী ন্যায়বিচার পেতে দীর্ঘসূত্রতার শিকার হচ্ছেন।

আসমা বেগম, যিনি দুই বছর আগে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন, জানান যে, বিচারক না থাকায় মামলার অগ্রগতি থেমে গেছে। রোজিনা খাতুন, যিনি ভরণপোষণের মামলায় ভুক্তভোগী, জানান যে, আদালতের আদেশে একবার টাকা পেলেও পরে তা নিয়মিত পাননি।

এদিকে, ৭০ বছর বয়সী খোদেজা বেগম অভিযোগ করেন যে, তার মামলা প্রায় ২০ বছর ধরে আদালতে চলছে এবং গত ১০-১১ মাসে একাধিক তারিখ পড়লেও বিচারক না থাকায় কার্যক্রম এগোয়নি।

সাদুল্লাপুর উপজেলার অন্যান্য বাসিন্দারাও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তাদের ভোগান্তি কমে।

বিজ্ঞাপন