যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে হেয়ার রিল্যাক্সার বা চুল সোজা করার প্রসাধনীতে ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য গোপন করার অভিযোগে প্রসাধনী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল’রিয়াল এসএ এবং এর মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অ্যারিজোনার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস্টিন মেইস এই মামলা দায়ের করেন।
এটি ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে হেয়ার রিল্যাক্সারের সম্ভাব্য ক্যানসার ঝুঁকি নিয়ে কোনো অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে করা প্রথম মামলা। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ল’রিয়াল ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করে তাদের পণ্য বাজারজাত করেছে, যা প্রধানত কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা ব্যবহার করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে ডিম্বাশয় ও জরায়ুর ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু ভোক্তাদের এ বিষয়ে কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি।
মামলায় ল’রিয়ালের কাছ থেকে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সতর্ক না করা পর্যন্ত এসব পণ্য বিক্রি বন্ধে আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। অ্যারিজোনার মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কয়েক দশক ধরে নারী ও শিশুদের কাছে এসব পণ্য বাজারজাত করার সময় ল’রিয়াল আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষের ওপর সামাজিক চাপ ও বৈষম্যমূলক সৌন্দর্যমানকে কাজে লাগিয়েছে।
এই মামলা এমন সময়ে হয়েছে, যখন ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে ১২ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে, যা নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলা বর্তমানে শিকাগোর একটি ফেডারেল আদালতে একত্রিত করে পরিচালনা করা হচ্ছে।
ল’রিয়াল ইউএসএ-এর এক মুখপাত্র অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাদের পণ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং মামলাগুলো আইনগত ও বৈজ্ঞানিক উভয় দিক থেকেই ভিত্তিহীন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে এসব হেয়ার রিল্যাক্সার বাজারজাত করা হয়, যা চুলের স্বাভাবিক গঠন স্থায়ীভাবে সোজা করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) একটি গবেষণা প্রকাশের পর এ বিষয়ে প্রথম মামলাগুলো সামনে আসে। গবেষণায় বলা হয়, বছরে কয়েকবার হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহার করা নারীদের জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ব্যবহার না করা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
ল’রিয়ালের মুখপাত্র বলেন, ওই গবেষণায় হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহারের সঙ্গে বাদীদের অভিযোগ করা রোগের সরাসরি কারণগত সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলাগুলোতে আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা ব্যয় এবং পণ্য কেনার খরচসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
ল’রিয়ালের পাশাপাশি রেভলনসহ অন্যান্য হেয়ার রিল্যাক্সার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকেও এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। রেভলনও তাদের পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।