“আগামীর বরিশাল: সংকট, সম্ভাবনা ও করণীয়” শিরোনামে বরিশালের উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বরিশালবাসী উন্নয়নের জন্য ঢাকার দিকে তাকিয়ে থাকবে না; বরং বরিশাল থেকেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। নদী ও সমুদ্রকে অর্থনীতির সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে বরিশালের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
বরিশাল দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে নদী, কৃষি, মৎস্য, ইলিশ, সমুদ্র, বন্দর এবং পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বরিশালের উন্নয়ন সূচকে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকার একটি কারণ হলো, এটি কখনো একটি সমন্বিত আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হয়নি।
বরিশালের উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তবতা হলো, এটি নদী ও সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ হলেও ঝুঁকিও রয়েছে, যেমন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ইত্যাদি। প্রশাসনিক কাঠামো উপকূলবাসীর সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। এজন্য একটি পৃথক উপকূলীয় মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
যোগাযোগ ও পরিবহন উন্নয়ন বরিশালের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে গতি আনলেও, রেল যোগাযোগের উন্নয়ন প্রয়োজন। ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী রেল করিডোর স্থাপন করা হলে অর্থনৈতিক সুফল বাড়বে।
বরিশালে উৎপাদন আছে, কিন্তু মূল্য সংযোজন নেই। কৃষি ও মৎস্য খাতের পণ্যের বড় অংশ কাঁচামাল হিসেবে বাইরে চলে যায়। তাই কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজন।
মৎস্য খাত বরিশালের অর্থনীতির একটি বড় সম্পদ। বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৎস্য হিমাগার এবং প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
বরিশালের নদী ও সমুদ্রকে অর্থনীতির শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। নদীকে পণ্য পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পায়রা বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির নতুন করিডোর হিসেবে কাজ করতে পারে।