সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

ইরানপন্থীদের দখলে লোহিত সাগর, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

ইরানপন্থীদের দখলে লোহিত সাগর, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানপন্থীদের দখলে লোহিত সাগর, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে পারে। সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগত পেরিম দ্বীপ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, হুতিদের এই বিজয়ে সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে ইউরোপে তেল পাঠানোর বিকল্প হিসেবে এই রুটটি ব্যবহার করছিল। তবে হুতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সৌদি আরবের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে না।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা আইইএ পূর্বাভাস দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের এই অচলাবস্থা ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এই সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি খরচ হবে, কারণ বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় তেল ও এলএনজি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের জন্য জ্বালানি কিনতে অতিরিক্ত খরচ হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

দ্বিতীয়ত, শিপিং খরচ বৃদ্ধি পাবে। লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের নিরাপত্তা সংকটের কারণে জাহাজগুলোকে ঘুরে আসতে হচ্ছে, ফলে শিপিং খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

এছাড়াও, কাঁচামাল ও এলএনজি সময়মতো আমদানি না হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে।

বিশ্বজুড়ে এই সংকটের প্রভাব শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল ভূ-রাজনীতির ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন