পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন হলে দেশের ২৪টি জেলায় অর্থনৈতিক রূপান্তরের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
তিনি জানান, ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে প্রকল্পটির কারিগরি সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সাত বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গ্রামীণ উন্নয়ন দর্শনকে গুরুত্ব দিয়ে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিতে নতুন গতি আনা এবং দেশকে আরও স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য রয়েছে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি হারুন অর রশিদসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চলতি বছরের ১৩ মে একনেক সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যারেজটি হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ। এতে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, একটি নেভিগেশন লক ও দুটি ফিস পাস থাকবে। ব্যারেজের ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হবে একটি রেলওয়ে সেতুও।
এ ছাড়া প্রকল্পে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ব্যারেজটি বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীসহ দেশের ২৬ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।