বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

নোয়াখালীতে কীটনাশক স্প্রে, ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ

নোয়াখালীর জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে কীটনাশকের বিষাক্ত বাষ্পে ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে।

নোয়াখালীতে কীটনাশক স্প্রে, ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে একসঙ্গে ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের তদন্তে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পাশের ধানক্ষেতে স্প্রে করা এসিমিক্স কীটনাশকের বিষাক্ত বাষ্প শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শন করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। এ সময় তার সঙ্গে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তদন্তের সময় বিদ্যালয়ের পশ্চিম-উত্তর পাশে একটি জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার তথ্য পায় তদন্ত দল। বিদ্যালয়ের একেবারে পাশে ওই জমিতে কীটনাশক স্প্রে করায় এর বিষাক্ত বাষ্প বাতাসের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়ে।

ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, ‘সোমবার ওই জমিতে এক কৃষক এসিমিক্স কীটনাশক স্প্রে করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে ওই কৃষক তার বাড়িতে থাকা কীটনাশকের বোতলটি তদন্ত দলের কাছে নিয়ে আসেন। বোতলের গায়ে উল্লেখ রয়েছে, এ ধরনের তরলের তীব্র ঘ্রাণ বা সংস্পর্শে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অস্থিরতা ও চেতনা হারানোর মতো শারীরিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।’

এ ঘটনায় কীটনাশকের বোতলসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, ‘বিদ্যালয় চলাকালে স্কুলের সীমানাসংলগ্ন জমিতে কোনো ধরনের কীটনাশক স্প্রে করা যাবে না।’

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে তমরুদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ষষ্ঠ, সপ্তম ও দশম শ্রেণির ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অচেতন অবস্থায় ১৩ জনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে রাতেই সবাই বাড়ি ফিরে যায়।

বিজ্ঞাপন