শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

হরমুজে ইন্টারনেট ক্যাবল কাটা নিয়ে ইরানের কট্টরপন্থিদের আহ্বান

ইরানের কট্টরপন্থিরা হরমুজে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ক্যাবল কাটার আহ্বান জানিয়েছে, যা বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

হরমুজে ইন্টারনেট ক্যাবল কাটা নিয়ে ইরানের কট্টরপন্থিদের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের কট্টরপন্থি মহল দেশটির সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি ও আরব উপসাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট ক্যাবল বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্ট জানায়, ইরানের অতি রক্ষণশীল সংবাদপত্র কেইহান-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হোসেইন শারিয়াতমাদারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ইন্টারনেট ক্যাবলের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হতে পারে।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ইরানের কি অধিকার নেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ‘পরাজিত করতে’ পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট ক্যাবল বন্ধ করে দেওয়ার? শারিয়াতমাদারি উল্লেখ করেন, ক্যাবলগুলো কেটে দেওয়ার মাধ্যমে এই পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে এবং যুদ্ধে সরাসরি জড়িত নয় এমন দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবুও, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব দেশের ‘প্রতিরোধ গড়ে না তোলার’ বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম এর আগে সমুদ্রতলের ক্যাবলকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ ক্যাবল ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, আইআরজিসি সংঘাত বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যার মধ্যে সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল নাশকতার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্যাবলগুলো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাবেক ব্রিটিশ সেনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড. লিনেট নুসবাখার বলেন, ইরানের জন্য এসব ক্যাবল চাপ তৈরির একটি হাতিয়ার হলেও, তেহরান এখনও সেটি ব্যবহার করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন তেল ও গ্যাস পাইপলাইন চালু হলে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব কমে আসবে।

সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া জানায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সম্প্রতি ইরানের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। আইএসডব্লিউ বলছে, তথ্যটি সত্য হলে ইরান তার চাপ প্রয়োগের কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার কথা বিবেচনা করছে।

সমুদ্রতলের আন্তর্জাতিক ফাইবার-অপটিক ক্যাবলগুলোয় বড় ধরনের ক্ষতি হলে ইন্টারনেট যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোয় ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংঘাত এখন বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন