বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, নেদারল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা নিজেদের সোনার মজুদের একটি বড় অংশ ব্রিটেনে স্থানান্তর করেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ডিএনবি) জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সংকট মোকাবেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএনবি জানায়, সোনার মজুদের অবস্থান পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে তারা ‘তীব্র সংকট মোকাবিলায় আরও ভালোভাবে প্রস্তুত’ হতে চায়। তবে ব্যাংকটি উল্লেখ করেনি, ঠিক কোন ধরনের সংকটের জন্য এই প্রস্তুতি। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ এবং ইরান ও ভেনেজুয়েলা নিয়ে সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর প্রেক্ষাপটেও এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।
ডিএনবির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লেইপেন বলেন, সোনার মজুদ স্থানান্তরের ফলে এগুলো বাজারে সহজে লেনদেনযোগ্য হয়ে উঠেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সোনার মজুদ কখনো ব্যবহার করতে না হয়, তবে সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের কাছে মোট ৬১২ দশমিক ৪ টন সোনা রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৮৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এই সোনার মজুদ নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে যদি ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।
নেদারল্যান্ডসের সোনার মজুদের পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া দুইটি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমত, নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ৫৯ টন সোনা বিক্রি করে লন্ডনে সমপরিমাণ সোনা কেনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি সোনা সরাসরি নেদারল্যান্ডসে নিয়ে আসা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে রাখা হয়েছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সংকটের সময় কাজে লাগবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তাদের সোনা সংরক্ষণের জন্য অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হতে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে, কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে এই পদক্ষেপটি প্রভাবিত হতে পারে।