ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার নয় মাস পর ১৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কিশোর জাদাল্লাহ জিহাদ জুমা জাদাল্লাহর মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর পশ্চিম তীরের আল-ফারায়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় নিহত হয় এই কিশোর।
ফিলিস্তিনিদের শহীদদের মরদেহ উদ্ধারের জাতীয় প্রচারণা কমিটি জানায়, নিহত কিশোরের মরদেহ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে ছিল। গত মার্চে, মরদেহ ফেরত দেওয়ার দাবিতে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। আদালতকে জানানো হয় যে, জাদাল্লাহর মরদেহ দ্রুত হস্তান্তর করা হবে।
কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মরদেহ হস্তান্তর করবে, তবে নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। ফিলিস্তিনি প্রচারণা কমিটি দাবি করেছে, নয় মাস ধরে মরদেহ আটকে রাখার কারণে জাদাল্লাহর পরিবার শেষবারের মতো বিদায় জানানো এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাদাল্লাহর মরদেহ দাফন করা হবে, বলেছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা। বর্তমানে ইসরায়েলের কাছে প্রায় ১ হাজার ৭শ' ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে, যার মধ্যে ৭৯৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখার ইসরায়েলি নীতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০১৯ সালে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট এই নীতির অনুমোদন দেয়, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাদাল্লাহর মরদেহ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার পরিবারের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেও, ইসরায়েলের হেফাজতে থাকা আরও বিপুলসংখ্যক মরদেহের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।