শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বেতন বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে

নতুন পে স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তি, কিন্তু বেসরকারি খাতের ওপর চাপ বাড়বে।

বেতন বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে

নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে, যা তাঁদের জন্য স্বস্তির খবর। তবে, দেশের ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর পাশাপাশি কোটি কোটি মানুষ বেসরকারি খাতে কাজ করেন, দিনমজুরি করেন, বা ছোট ব্যবসা করেন। প্রশ্ন উঠছে, এই বেতন বৃদ্ধি তাঁদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে?

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের এই বাড়তি আয় বাজারে ভোগের চাহিদা বাড়িয়ে দেবে। আবাসন, পরিবহন এবং সেবা খাতে কেনাবেচা বাড়বে, কিন্তু পণ্যের সরবরাহ বাড়বে না। এর ফলে মূল্যস্ফীতি আকাশছোঁয়া হতে পারে। এফবিসিসিআই এবং ক্যাবের মতো সংগঠনগুলো বাজারে পণ্যের দাম বাড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বেসরকারি চাকরিজীবীদের ওপর চাপ পড়বে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাস্তবতা কঠিন। বর্তমান জ্বালানি সংকট, গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব এবং উৎপাদন স্থবিরতার কারণে বেসরকারি খাতের অবস্থান সংকটময়। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং শ্রম আইন অনুযায়ী পোশাক খাতে নতুন মজুরি বোর্ডের সুযোগ নেই।

২০১৫ সালের পে স্কেলের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তখন কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মীরা সেই সুযোগ পাননি। এবারও একই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বাড়লেও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে না, ফলে তাঁদের সমস্যা বাড়তে পারে।

সরকারি এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে বৈষম্য কেবল মাসের বেতনেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি চাকরিতে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে, যা সরকারি চাকরিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।

এতে দুটি বড় সংকট তৈরি হচ্ছে: দক্ষ কর্মী ধরে রাখার সংকট এবং সামাজিক বৈষম্য। একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বেসরকারি চাকরিজীবীরা মূল্যস্ফীতির চাপের মুখে পড়ছেন।

সরকারি পে স্কেল কার্যকর হলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, সরকার যদি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় বা নতুন টাকা ছাপায়, তবে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন বলছে, সুফল পেতে হলে জনগণের করের টাকায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পর দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কেবল টাকা ছাপিয়ে বা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়িয়ে এই পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

বিজ্ঞাপন