মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে–স্কেল অনুমোদন

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে–স্কেল অনুমোদন, বেতন বৃদ্ধি ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে–স্কেল অনুমোদন

মন্ত্রিসভা বৈঠকে নবম পে–স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ের নতুন এক নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হবে। জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ সংশোধনের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের নতুন বেতনস্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন কাঠামোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিম্ন ও মাঝারি স্তরের কর্মচারীদের (১২তম থেকে ২০তম গ্রেড) আর্থিক সুরক্ষায় তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করা হয়েছে। সিভিল সার্ভিসের প্রারম্ভিক পদে ৯ম গ্রেডের বর্তমান প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।

প্রথম শ্রেণির শীর্ষ পদ অর্থাৎ ১ম গ্রেডের সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ২য় গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা, ৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা এবং ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার টাকা থেকে ৮৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

মাঝারি ও সহকারী কর্মচারী পর্যায়ে ১১তম থেকে ১৫তম গ্রেডের কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি। ১২তম গ্রেডে বর্তমান প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা, নতুন প্রস্তাবে তা ১১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে।

নিম্নতম ও সহায়ক কর্মচারী পর্যায়ে ১৬তম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতনে সবচেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৬তম গ্রেডে বর্তমান প্রারম্ভিক বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১৩৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা করা হয়েছে। ২০তম গ্রেডের সর্বাধিক বেতন হবে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা।

সার্বিকভাবে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কাঠামোগত বৈষম্য কমাতে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার শতভাগের ওপরে রাখা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বিজ্ঞাপন