চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে পণ্যবাহী জাহাজের অপেক্ষা বাড়ছে। আমদানিকারকরা নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পাঠাতে না পেরে বড় অঙ্কের লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লাইটার জাহাজ মালিকদের নিয়ম না মেনে জাহাজ পরিচালনার কারণে সংকট বেড়েছে। বর্তমানে ৬৮টি জাহাজ বহির্নোঙরে ভাসছে, যেগুলো খাদ্যশস্য, সার, সিমেন্ট ক্লিংকারসহ বিভিন্ন খোলাপণ্য নিয়ে এসেছে।
এই জাহাজগুলো থেকে লাইটারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১২০ মেট্রিক টন পণ্য। তবে, লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে বরাদ্দ মেলেনি।
ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দেশে বর্তমানে পণ্য পরিবহনে যুক্ত লাইটারের সংখ্যা এক হাজার ৫০টি, তবে চার শতাধিক লাইটার নিয়ম ভেঙে সিরিয়াল প্রথা না মেনে পণ্য পরিবহন শুরু করেছে।’
বাফার সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন জানান, ‘বর্হিনোঙরে জাহাজ অলস বসে থাকায় প্রতিদিন ১০-১৫ হাজার ডলার বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।’
নৌ বাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, ‘পণ্য পরিবহনে অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যে ৫৬টি লাইটার জাহাজের ‘বে-ক্রসিং’ লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে চালু রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
বর্তমানে প্রতিবছর দশকোটি টন খোলাপণ্য লাইটার জাহাজের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙর থেকে বিভিন্ন নদীবন্দরে পরিবহন করা হয়।