দীর্ঘ ১১ বছর পর প্রজাতন্ত্রের কর্মীরা নতুন পে–স্কেল পাচ্ছেন। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি বাস্তবায়ন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তারা খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অর্থনীতিবিদরা সরকারকে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেসরকারি খাতে বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি হলে বৈশ্বিক সংকটের কারণে তার সমাধান কঠিন হবে।
জীবন যাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে মিল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। সোমবার, অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশ অনুযায়ী নবম পে–স্কেল অনুমোদন করেছে বিএনপির মন্ত্রিসভা। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন পে–স্কেল সরকারি কর্মীদের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসবে, তবে এর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপরেই এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে, এমনটাই মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘খাদ্য এবং খাদ্য বহির্ভূত উভয় মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে বাড়তি অর্থ প্রবাহ আসলে পণ্য ও সেবা বৃদ্ধি না হলে মূল্যবৃদ্ধি হবে।’
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, ‘সাপ্লাই চেইনে স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা জরুরি। অর্থ বাজারে প্রবাহিত হলে বিভিন্ন পণ্যের বাজারে চাপ তৈরি হবে।’
দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট উৎপাদন ব্যাহত করছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে রপ্তানি আয় কমেছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, বেসরকারি খাতে বেতন বাড়ানোর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হবে। বিকেএমইএ–এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ থেকে ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি অন্যান্য খাতেও চাপ বাড়াবে।’
বিশ্লেষকরা সরকারের অন্যান্য অগুরুত্বপূর্ণ ব্যয় কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সরকারের উচিৎ হবে উৎপাদনশীলতা কমিশন গঠন করে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে কাজ করা।’
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ব্যয় কমানোর তাগিদ বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছে।