সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি নাগরিক কামরুল হোসেন (৩৭)কে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রোববার সৌদি আরবের তায়েফ শহরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের খোরশেদ আলমের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কামরুল রোববার সকালে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন, হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে কামরুল তার কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন, তখন এক সৌদি তরুণ তার ওপর গুলি চালায়।
হামলার সময় কামরুল মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন, কিন্তু হামলাকারী তাকে খুঁজে বের করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করে। ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হয়। হামলাকারী পরে নিজে আত্মহত্যা করেন।
কামরুলের ছোট ভাই মোজাম্মেল হোসেন মোহন জানান, তিন বছর আগে তাদের সেজো ভাই সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে মারা যান। কামরুল দুই শিশু সন্তানের জনক, যার ছোট ছেলের বয়স তিন বছর এবং বড় ছেলের বয়স পাঁচ বছর।
কামরুলের বাবা খোরশেদ আলম একজন প্রান্তিক কৃষক। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের দুই ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।” পরিবারটি সরকারের কাছে কামরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অসহায় পরিবারটির জন্য সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ ওয়ার্ড মেম্বার জাফর উল্যাহ বলেন, “কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার নসির উদ্দিন জানান, “কামরুলকে কেন গুলি করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে, আমরা সবাই শোকাহত।”