মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত নিয়ে এসেছে মক্কা প্যাক্ট, যা সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি সামরিক জোট। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হলো, যেকোনো একটি দেশে হামলা হলে, তা বাকি সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা দেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মক্কা প্যাক্টে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের অংশগ্রহণ রয়েছে। তুরস্কের সেনাবাহিনী ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসেবে পরিচিত, পাকিস্তান হলো মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, এবং সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ খনিজ তেল রফতানিকারক। এই জোটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেছেন, “মক্কা প্যাক্ট হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটা ব্যবস্থা।” তিনি জানান, এই জোট নিয়ে উদ্বেগের কোনো অবকাশ নেই এবং বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে বিষয়টি দেখছে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, আলোচনা করার সময় এখনও আসেনি।
বাংলাদেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক কাজ করেন, যা বৈদেশিক মুদ্রার একটি প্রধান উৎস। সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কও এই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে জোরালো করছে। তবে, এই জোটে যোগ দেওয়ার ফলে প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা এই জোটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে, পাকিস্তান বাংলাদেশের সামরিক জোটের একটি প্রধান সদস্য হওয়ায় নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়া বলেন, “মক্কা প্যাক্টে যোগ দিলে বাংলাদেশের সম্পর্ক সব দেশের সাথে রাতারাতি ভেঙে যাবে না, তবে বাংলাদেশ কোন পক্ষে আছে—এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ শাহান মনে করেন, এই জোটে যোগ দিলে ভারতসহ কিছু দেশ অখুশি হতে পারে, তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। মক্কা প্যাক্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে, যেখানে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে ভারতের সাথে সম্পর্ক সামলানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে।