রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

বাংলাদেশের মক্কা প্যাক্টে যোগ: ভারতের উদ্বেগের কারণ

বাংলাদেশের মক্কা প্যাক্টে যোগের সম্ভাবনা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের মক্কা প্যাক্টে যোগ: ভারতের উদ্বেগের কারণ

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বমঞ্চে শক্তির সমীকরণ পরিবর্তন করেছে। সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একত্রে গঠন করেছে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা ‘মক্কা প্যাক্ট’। বাংলাদেশও এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা প্রতিবেশী ভারতকে উদ্বিগ্ন করেছে।

মক্কা প্যাক্ট মূলত একটি যৌথ সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা ন্যাটোর মতো কাজ করে। এই চুক্তির আওতায়, উল্লিখিত তিনটি দেশের মধ্যে যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, তিন দেশের সম্মিলিত সেনা সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ, যার মধ্যে পাকিস্তানের ৬ লাখ ৬০ হাজার, তুরস্কের ৪ লাখ ৮১ হাজার এবং সৌদি আরবের ২ লাখ ৪৭ হাজার সেনা রয়েছে।

এই তিন দেশের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্য। তাদের কাছে ৩ হাজার ৪১৫টি সামরিক বিমান, ৬ হাজার ৪৬টি ভারী ট্যাংক এবং ৩৪৪টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১২৪.৪ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তিন দেশ একে অপরের অভাব পূরণ করছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিতে প্রস্তুত। এতে বাংলাদেশের কৌশলগত বিকল্প বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সুবিধা এবং চীনের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি হবে।

ভারতের উদ্বেগের কারণগুলো বেশ জটিল। প্রথমত, পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্কের জোট গঠন ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনও বিষয়টিকে জটিল করেছে। তৃতীয়ত, ভারত দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় একচ্ছত্র প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করছে।

মোটকথা, মক্কা প্যাক্ট কেবল তিন দেশের চুক্তি নয়, বরং এটি সুপারপাওয়ারগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর একটি প্রয়াস। বাংলাদেশ যদি এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির নকশা পরিবর্তিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন