আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি নতুন করে নজর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা আজও তাদের প্রিয়জনের খোঁজে রয়েছেন।
আনিশা ইসলাম ইনশার জানান, তার বাবার নামের পাশে 'জীবিত' না 'মৃত' লেখার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, "আমার ভাই আমাকে বারবার বলছিল, আপু ছবিটা ওপরে তুলে ধরো। আঙ্কেলরা বাবাকে খুঁজে দেবে। এখন আর ও জিজ্ঞেস করেনা, বাবা কোথায়।"
মিরপুরের কাঠ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বাতেন ২০১৯ সালে গুম হন। তার স্ত্রী নাসরীন জাহান স্মৃতি বলেন, "আমরা চাই না পরের বছর আবার দাঁড়াতে। এটার একটা সমাধান হোক। গুমের বিচার করতে এই সরকার আমাদের মতো ভিক্টিম পরিবারের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।"
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১,৫৬৯টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, "এমন আইন তৈরি করতে হবে যেটা এ ধরনের গুমের কাজকে নিরুৎসাহীত করবে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা হবে।"
বিশেষজ্ঞরা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ কে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, "পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে কতটা নিরপেক্ষ প্রতিকার পাওয়া যাবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।"
গুমের শিকারদের পরিবারের সদস্যরা বিচার ও জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা আশা করছেন, সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।