বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
নেভাডায় দাবানলে ৪২ হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে হাইতিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৪৭, আহত ২২ গাজায় ইসরায়েলি হামলা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,৪২২ মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত শিশুর জৈবিক বাবা গিনিতে ময়লার ভাগাড় ধসে নিহত ৩০, আহত ২২ রংপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ৪ জন খুন, দুই যুবক গ্রেপ্তার মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক ও তার পরিবারের ৪ জনকে হত্যা যুক্তরাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭, দুই পুলিশ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত যুক্তরাজ্যে পুলিশের গাড়িতে অন্য গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৭ সিলেটে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত
রাজনীতি

এইচআরডব্লিউর দাবি: রাজনৈতিক নেতাদের বিচারবহির্ভূত আটক বন্ধ করতে হবে

এইচআরডব্লিউ রাজনৈতিক নেতাদের বিচারবহির্ভূত আটক বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

এইচআরডব্লিউর দাবি: রাজনৈতিক নেতাদের বিচারবহির্ভূত আটক বন্ধ করতে হবে

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত রাজনীতিবিদদের বিচারবহির্ভূত আটক বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর পুলিশ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শত শত এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়া কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সংগঠনটি জানায়, হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে কিছু কর্মকর্তা হয়তো জড়িত ছিলেন, কিন্তু অনেককে প্রমাণের তোয়াক্কা না করেই আন্দোলনকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীদের অভিযোগ, বন্দীদের মধ্যে অনেকে বয়োবৃদ্ধ এবং মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তবে তাঁদের জামিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিযোগ গঠন ছাড়া অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে মারা গেছেন।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হতে সজাগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা অন্য দলের কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার যাতে না হয়, সেদিকে সতর্ক রয়েছে বর্তমান সরকার।’

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘প্রমাণ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই শত শত বিরোধী দলের নেতা-কর্মীকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘমেয়াদি ও নির্বিচারে আটক রাখা বন্ধ করা উচিত।’

মানবাধিকার সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বিনা বিচারে আটকে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ সমর্থক সাংবাদিকও রয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মামলার বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এক আন্দোলনকারীকে হত্যার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী তিন মাসে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ৪টি মামলা দেওয়া হয়। নিম্ন আদালত প্রতিবারই জামিন নামঞ্জুর করে।

এইচআরডব্লিউ আরও জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও ১৬০ জনের বেশি আটক ব্যক্তির কাউকেই জামিন দেয়নি। সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার ২২ মাস ধরে বিনা বিচারে কারাগারে আটক আছেন।

ইলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘যে বিচারব্যবস্থায় অভিযোগ গঠনের আগেই বয়োবৃদ্ধরা কারাগারে মারা যান, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। বাংলাদেশ সরকারের উচিত এই মৃত্যুর ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং বিনা বিচারে দীর্ঘমেয়াদি আটক রাখা বন্ধ করা।’

বিজ্ঞাপন