বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ জেরার্ড জোনসের বরখাস্তের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি, তিনি হোটেলে দেশি কোচের সঙ্গে হাতাহাতির পর পুলিশ ডাকেন। এরপর তিনি ফেসবুকে একটি কান্নাভেজা ভিডিও বার্তায় জানান, ‘আমি নিরাপদ নই!’
জোনস গত জুন মাসে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের দায়িত্ব নেন এবং তার সঙ্গে বাফুফের চুক্তি হয় দুই বছরের জন্য। আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভালো ফলাফলের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। তবে, ১০ আগস্ট জোনস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, তিনি বেতন পাচ্ছেন না এবং তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত।
বাফুফে জানায়, চুক্তি অনুযায়ী তার বেতন সময়মতো পাঠানো হয়েছে। পরে জোনসও স্বীকার করেন যে, তিনি টাকা পেয়েছেন, তবে তার আর্থিক তথ্য অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
গত বুধবার, জোনস ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে তর্ক-বিতর্কের পর পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। জোনস ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডাকেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম জানান, দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। সোমবার রাতে জোনস ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তিনি কর্মক্ষেত্রে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। তবে তিনি সহকারী কোচের সঙ্গে বিরোধের কথা অস্বীকার করেন।
এই ঘটনার পর থেকেই জোনসকে বরখাস্তের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাফুফে থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। জোনস নিজেই এই খবর নাকচ করে দেন এবং প্রশ্ন তোলেন, কে বা কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই তথ্য ছড়াচ্ছে।
সূত্র জানায়, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জোনসকে অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দায়িত্বে দেওয়া হতে পারে। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব শুরু হচ্ছে, এবং দলের দেশ ছাড়ার কথা ৩০ আগস্ট।