সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
ধর্ম

গুমের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও বিচার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুমের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও বিচার দাবী করেছেন।

গুমের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও বিচার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাও’ যা গুমের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

তিনি বলেন, গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে একটি, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

বিগত সরকারগুলোর বিরুদ্ধে গুম-অপহরণের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের জন্য গুমের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

তিনি জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে গুমের শিকার হওয়া অন্তত সাত শতাধিক মানুষের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে গুম বন্ধে পৃথক আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুম শুধুমাত্র একটি ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। স্বজনরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান, যেখানে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর কিছু মানুষ ফিরে এলেও, ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অনেকের এখনও সন্ধান মেলেনি।

তিনি বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন