২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেছেন, হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা এখন ইরানের মানুষের কাছে ‘বীরত্বের প্রতীক’ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনা ইরানের মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে এবং এর জন্য দায়ীদের কখনো ক্ষমা করা হবে না।
হামলার পর মিনাবের স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতি দেশবাসীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ পায়। নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারে শোকের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই হামলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘ভুল’ হামলার ফলস্বরূপ এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটি, কিন্তু ভুলক্রমে স্কুলটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। হামলার দিন ১৬৮ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্টাফ নিহত হন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হামলার দায় স্বীকার না করে বলেন, ‘তদন্ত চলছে’ এবং ‘প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে’। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, হামলার বিষয়ে মৌলিক তথ্য প্রকাশ না করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তারা বলেন, হামলার পর পেন্টাগনের নীরবতা নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলাকে যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, এই মর্মান্তিক হামলা বেসামরিক জনগণের ওপর সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাবের উদাহরণ।
হামলার পর ইরান একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে স্কুলে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ লোগো ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পেছনে ইরানই দায়ী।