রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

দিল্লিতে তারেক রহমানের আমন্ত্রণ: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

দিল্লিতে তারেক রহমানের আমন্ত্রণ রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করছে।

দিল্লিতে তারেক রহমানের আমন্ত্রণ: কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

চলতি মাসের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে একটি ভুল ই-মেইল পুরো কূটনৈতিক পাড়ায় তোলপাড় ফেলে দেয়। ই-মেইলে জানানো হয়, দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে, কারণ সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানানোর মহড়া চলছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ই-মেইলটি প্রত্যাহার করা হয়, তবে দিল্লি যে তারেক রহমানকে ভারতে নিতে আগ্রহী—এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ জানিয়েছেন, হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়াই ঢাকার সাথে সম্পর্কের বরফ গলাতে দিল্লি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চিকিৎসা ভিসা চালুর চেষ্টা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ করার উদ্যোগগুলি এই প্রচেষ্টার অংশ।

তবে, তারেক রহমানের দিল্লি সফর এখনও অনিশ্চিত। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, এবং বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে অনুরোধ করেছে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন, হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ভারত কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

ভারতের উদ্বেগের কারণ শুধু শেখ হাসিনা নয়; পাকিস্তান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪,৯৬০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। হাসিনার শাসনামলে ভারত বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও বন্দর ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছিল। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও পরিবর্তিত হচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশকেও প্রভাবিত করতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তা জোটে অংশ নেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

আগামী মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তারেক রহমানের দিল্লি সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। ভারতের চাওয়া হলো বাংলাদেশে তাদের কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করা, আর তারেক রহমানের চাওয়া হলো জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা।

বিজ্ঞাপন