গাইবান্ধায় পুলিশ সুপারের বাংলোর বাথরুম থেকে ৪০ বছর বয়সী পুলিশ সদস্য হাবিবুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী শহরের বাবুপাড়ার বাসিন্দা এবং তিনি মিন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি ১২ আগস্ট থেকে পুলিশ সুপারের বাংলোর গার্ড রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর বাংলোর বাথরুমে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে না আসায় সহকর্মীরা সন্দেহ করেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, বাথরুমের রডের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ ঝুলছে।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় হাবিবুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বাথরুমে পাওয়া যায়। ফোনটি এমনভাবে রাখা ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার সময় ভিডিও কল চালু থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, হাবিবুরের আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি, তবে প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
জানা যায়, ডিএমপিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় হাবিবুর স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় বাস করতেন। বদলি হয়ে গাইবান্ধায় আসার পরও তার স্ত্রী ও সন্তান ঢাকাতেই ছিলেন। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, প্রাথমিক তদন্তে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের বিষয়টি জানা গেছে। ঘটনার আগে তাকে মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথাকাটাকাটি করতে শোনা যায়।
এদিকে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও অনুসন্ধান চলছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুলিশ লাইনে জানাজা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।