নেপালে প্রবল পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। বুধবার সকালে উত্তরাঞ্চলীয় রাসুওয়া জেলায় এই আকস্মিক বন্যায় ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন, যাঁদের অধিকাংশই পর্যটক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত থেকে আসা ভোটে কোশি নদী নেপালের ত্রিশূলী নদীতে মিশে গিয়ে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এই নদীর প্রবল ঢল রাসুওয়া সীমান্ত ক্রসিংয়ের তিমুরে বাজার এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে উত্তরগয়া গ্রামীণ পৌরসভার সহ-সভাপতি চামেলি গুরুং জানিয়েছেন, শ্যাফরুবেসি, বেত্রাবতী, মাইলুংসহ প্রায় ডজনখানেক জনপদ এই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাদাগোলা পানির তোড়ে বিভিন্ন অবকাঠামো ও বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে।
নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের তিমুরে মোতায়েন থাকা পুলিশের ৯ জন সশস্ত্র সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খাসহ ত্রিশূলী নদী অববাহিকার আশেপাশের এলাকাগুলোতে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে নেপাল পুলিশ।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও জানি না, তবে বন্যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। আমরা নদীর পারের অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করেছি।’
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌর প্রকল্পসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।