সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

পুলিশের চাকরির প্রতি তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

পুলিশের চাকরির প্রতি তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে, রাজনৈতিক নির্ভরতার সংস্কৃতি এর মূল কারণ।

পুলিশের চাকরির প্রতি তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে পুলিশের চাকরি একসময় ছিল স্বপ্নের চাকরি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অনেক তরুণ পুলিশ ক্যাডারকে ক্যারিয়ারের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করতেন। চাকরির নিশ্চয়তা, সামাজিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অংশ হওয়ার সুযোগই ছিল এর মূল কারণ।

কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের ফলে তরুণ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেক তরুণ প্রশ্ন করছেন, ‘কোন প্রতিষ্ঠানে গেলে ভবিষ্যতে নিজের পেশাগত পরিচয় ও নৈতিক অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ রাখা যাবে?’

এটি প্রশাসন ক্যাডারসহ বেসামরিক আমলাতন্ত্রের প্রতি নতুন আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। তরুণদের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেও প্রশাসনিক কাঠামো স্থায়ী থাকে। পুলিশের ক্ষেত্রে সরকার ও রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক এতটাই প্রত্যক্ষ যে, ক্ষমতাসীনদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পুলিশকে দায়ী করা হয়।

পুলিশের দুর্বলতা মূলত রাজনৈতিক নির্ভরতার সংস্কৃতিতে নিহিত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ সরকারের নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে জনগণের আস্থা ক্ষয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।

২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ পুলিশের ওপর হামলা, থানায় আক্রমণ এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের জনরোষের মুখে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এটি আইনশৃঙ্খলা কাঠামোর দুর্বলতার প্রতিফলন। যদি পুলিশকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে না দেখে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, তবে আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন কঠিন হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, পুলিশের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের দায় পুরো বাহিনীর ওপর চাপানো ন্যায়সংগত নয়। হাজার হাজার পুলিশ সদস্য প্রতিদিন নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেন। তবে সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত পুলিশকে দুর্বল করা নয়, বরং একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের অভিযোগও একটি বড় সমস্যা। যদি প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা হারিয়ে যায়।

পুলিশের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানোর পাশাপাশি পেশাগত স্বাধীনতা ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক পুনর্গঠনে কমিউনিটি পুলিশিং এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে।

বিজ্ঞাপন