স্বামী তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ডা. দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্ত থাকবেন।
প্যারোল হলো কারাগারে থাকা বন্দিকে সীমিত সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া। আইন অনুযায়ী, কেউ প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারেন যদি তিনি আবেদনের শর্ত পূরণ করেন। জামিন এবং প্যারোলের মধ্যে কিছু সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, জামিন আদালতের নির্দেশে হয়, কিন্তু প্যারোল প্রশাসনিক আদেশে। জামিনের ক্ষেত্রে আসামি আদালতে আবেদন করতে পারেন, যেখানে প্যারোলের জন্য বন্দিকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়।
জামিন পাওয়া ব্যক্তি স্বাধীনভাবে বাইরে থাকেন, কিন্তু প্যারোল পাওয়া ব্যক্তিকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়। জামিনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হতে হয়, অপরদিকে প্যারোল পাওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় পর আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।
যে কোনো ধরনের বন্দী প্যারোলের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। মনজিল মোরশেদ বলেন, যে ব্যক্তি যে অপরাধের কারণে শাস্তি ভোগ করছেন না কেন, তিনি প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন।
প্যারোলের সময়কাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো বন্দীর নিকটাত্মীয়ের জানাজা হয়, তাহলে সরকার নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোলের সময়সীমা নির্ধারণ করবে।
প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে একটি নীতিমালা রয়েছে, যার আওতায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হন। এই নীতিমালায় নিরাপত্তা, দূরত্ব এবং নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুজনিত কারণে প্যারোল মঞ্জুরের শর্তাবলী উল্লেখ করা হয়েছে।