নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১৪ দিন বয়সী সন্তানকে পানির ড্রামে ফেলে হত্যা করার অভিযোগে এক মা গ্রেপ্তার হয়েছেন। সোমবার রাতে মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের বাজার বাড়ির সৌরভ হোসেনের ঘরে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম মিয়ামিন হোসাইন, যিনি সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা বেগমকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভ ও ফাতেমার বিয়ে হয়। ১৪ দিন আগে তাদের নবজাতক সন্তান জন্ম নেয়। সোমবার সন্ধ্যা থেকে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে তিনি বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
রাত ১০টার দিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফাতেমা পরে সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করায় তাকে ঘুমাতে দেয়নি, তাই এই ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটির স্বজন ও এলাকাবাসী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, নবজাতকের বাবা ফাতেমার বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে আজ দুপুরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুপুর ২টায় জানাজা শেষে শিশুটির দাফন সম্পন্ন হয়।