বিশ্ব ফুটবলের সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। ফিফার প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর নেতৃত্বে থাকা অবস্থায়, তিনি "ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ" নামের একটি পরিকল্পনা প্রবর্তন করেছিলেন, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের মুনাফার ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ফিফার ৪২০ কোটি ডলার তোলার লক্ষ্য ছিল, যেখানে পুরো প্রতিষ্ঠানের মূল্য ধরা হয়েছিল ২ হাজার কোটি ডলার। তবে, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং কনক্যাকাফের মতো সংগঠনগুলো ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, এমনকি বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তও নেয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস প্রথম এই গোপন পরিকল্পনা প্রকাশ করে, যা পরে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ফিফার প্রধান উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন এবং প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন লামুর জানান, সভাপতির স্বচ্ছতার অভাবে কর্মীরা প্রতারিত বোধ করছেন।
চাপে পড়ে ইনফান্তিনো ২ হাজার কোটি ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন এবং মরক্কোর রাবাতে জরুরি সভা ডেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি ভিন্নভাবে সামলানো উচিত ছিল। তিনি ও ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ২১১টি সদস্য দেশের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তবে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং সাবেক ফুটবলার লুইস ফিগো ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করেননি এবং পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। ২০২৭ সালে ফিফা সভাপতির নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ইনফান্তিনো আপাতত নিজের পদে রয়েছেন, তবে তাঁর নেতৃত্বের ওপর যে প্রশ্ন উঠেছে, তা সহজে মুছে যাবে না। আগামী নির্বাচনের আগে তাঁকে নিজের ভাবমূর্তির সঙ্গেও লড়াই করতে হবে।