নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ১৯৯৩ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর প্রথম স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন মারা যাওয়ার পর তিনি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
গত ৭ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত এক মহাসমাবেশে তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।’
ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘আমি থাকি বা না-থাকি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন যেন অব্যাহত থাকে।’ তিনি ৩১ বছর আগে শোক ও বেদনার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই আন্দোলন শুরু করেছিলেন, যা এখন লাখো মানুষের প্রত্যাশা ও অধিকারের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার, প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। মানুষের জীবন রক্ষার এই লড়াইয়ে কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়, বরং সবাই একই লক্ষ্য অর্জনের সহযোদ্ধা।’
বর্তমানে ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দীর্ঘ একবছরের চিকিৎসার পর তিনি সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। অসুস্থতার কারণে আগের মতো সক্রিয় থাকতে না পারার কথা জানিয়ে মহান আল্লাহর কাছে সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
মহাসমাবেশে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সড়ক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। ইলিয়াস কাঞ্চন আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে যাচ্ছি, আমি না থাকলেও আপনারা এই দাবিকে বাঁচিয়ে রাখবেন।’