নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হলে বাংলাদেশে ফিরে হত্যা ও দুর্নীতিসহ তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তিনি বলেছেন, "যদি সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র পাই যে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তাহলে আমি ফিরে যেতে, আদালতের বিচারের মুখোমুখি হতে এবং যা যা করার প্রয়োজন, তার সবকিছু করতে রাজি আছি।"
সাকিব আল হাসান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, "আমি জানি, আমি কিছুই করিনি।" তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে একটি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হত্যার ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে।
তিনি হত্যার মামলাটিকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে বলেন, "মামলাটি দায়েরের দিন আমি টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলাম।" সাকিব জানান, তিনি এখনও এ মামলায় কোনও আইনজীবী নিয়োগ করেননি। দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, "আমি অবিলম্বে বাংলাদেশে ফিরতে চাই।"
সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, "নেত্রী যা বলেন আমরা তা অনুসরণ করি।" সম্প্রতি ভার্চুয়ালি শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়েও তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, "দেশে ঢুকতে বাধা দেওয়ার কারণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আমি এর যুক্তি বুঝতে পারিনি।" সাকিব আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ক্রিকেট থেকে অবসরের বিষয়ে সাকিব বলেন, "আমি খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে পারবো না।" তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাবগুলো তদন্তের কারণে জব্দ রয়েছে।
এছাড়া, গত দুই বছরে বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে না পারার বিষয়টিও তার জন্য কষ্টকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।