পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ভাতিজি আমেনাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চাচা নুর মোহাম্মদের ফাঁসির রায় বাতিল করে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৭ জুলাই) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে জানান, মামলাটির নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে নানা ত্রুটি ছিল। মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে যে, নুর মোহাম্মদ আমেনাকে ধর্ষণ করেছেন, কিন্তু সেই আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত করা চিকিৎসকের সাক্ষ্যতেও এ তথ্য উঠে এসেছে।
এছাড়া, বিচার চলাকালে নুর মোহাম্মদকে কারাগার থেকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। ফলে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনজীবীদের দাবি, আসামি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি জানার পরও বিচার কার্যক্রম চালানো হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী সঠিক নয়।
২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল নুর মোহাম্মদ ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে, ২০১৯ সালের ১ আগস্ট পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মিজানুর রহমান তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো বিচারকের মনে হয় আসামি মানসিক ভারসাম্যহীন, তাহলে এ বিষয়ে তদন্ত করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব আইনি বিধান উপেক্ষা করেই নুর মোহাম্মদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্ট সাবেক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কবির উদ্দিন প্রামাণিকের কাছে ব্যাখ্যা চান। ২৬ জুলাই তিনি আদালতে উপস্থিত হলেও কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য; আইন মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।