আগামী শনিবার বা রোববার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবার। এর ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন তিনি।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁর পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর, তাই মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত ছিল।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে জমা দিতে পারেন। ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইমিডিয়েটলি কার্যকর হয়। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছালে তা কার্যকর হয়ে যায়।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার পরও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ শূন্য থাকবে না। ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যা অনুসরণ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণ হলে ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদটি শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে সেটি পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।