বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

পায়রা বন্দরে চোরাই তেল-মাদক সিন্ডিকেটের অভিযোগ উত্থাপন

পায়রা বন্দরে চোরাই তেল ও মাদক সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

পায়রা বন্দরে চোরাই তেল-মাদক সিন্ডিকেটের অভিযোগ উত্থাপন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে নির্মিত পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি (কয়লা) পরিবহনে ব্যবহৃত একাধিক লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে চোরাই তেল ও মাদক সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জাহাজগুলো পায়রা সমুদ্র বন্দরের আওতাধীন নির্দিষ্ট জেটি দিয়ে নিয়মিত পণ্য খালাস করে।

তবে, পণ্য খালাসের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে লাখ লাখ টাকার চোরাই তেলের বাণিজ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, একাধিক কোম্পানির লাইটারেজ জাহাজ থেকে প্রায় প্রতিদিন তেল পাচার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চোরাই পথে তেল সরবরাহে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, স্থলপথে গড়ে তোলা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা অভিনব পদ্ধতিতে তৈরিকৃত ছোট ফাইবার বোর্ডে জাহাজের নাবিকদের তীরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এই বোর্ডগুলোতে বিশেষ পদ্ধতিতে তেল মজুতের জন্য আলাদা কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।

জাহাজ থেকে খুব কম সময়ে কয়েক হাজার লিটার তেল অপসারণ করে তীরে ফিরে আসে বোর্ডগুলো। পরে এই তেল স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

এ বিষয়ে তেল ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি জানান, জাহাজে কর্মরত মাদকাসক্তদেরকে মাদক সরবরাহ না করলে তেল বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা ঘটছে।

পুলিশি ঝামেলা এড়াতে সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের এক ব্যক্তির মাধ্যমে থানার কর্তাদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পায়রা সমুদ্র বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপটেন শরীফ বলেন, 'এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। পায়রা বন্দরে এমন কর্মকাণ্ড রোধে কোস্ট গার্ডকে আরও জোরদার করা হবে।'

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, 'সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, 'থানা পুলিশের বিষয়ে কেউ কিছু বলে থাকলে তা সত্য নয়।'

বিজ্ঞাপন