মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দেশ কেপ ভার্ড এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা।
২০১০ সালে বিশ্বকাপে কেপ ভার্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল স্পেনের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সেই ম্যাচে তারা আলোচনায় আসে। এরপর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে আবারও গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকে কেপ ভার্ড।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা পাঁচবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। কেপ ভার্ডের সাফল্যের পেছনে রয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী কেপ ভার্ডিয়ান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার কৌশল নেয়। বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ২৬ জনের মধ্যে ১৪ জন দেশের বাইরে জন্মেছেন।
কেপ ভার্ডের সংসদ সদস্য জোসিনা ফ্রেইতাস ফোর্তেস বিবিসি স্পোর্ট আফ্রিকাকে বলেন, ‘আজকের সাফল্যের পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধারাবাহিক পরিশ্রম।’ কোচ বুবিস্তার নেতৃত্বে দলটি শক্তিশালী ও সংগঠিত হয়ে উঠেছে।
২০২৩ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে তারা ঘানাকে হারিয়ে এবং মিসরের সঙ্গে ড্র করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়। কোচ বুবিস্তা বলেন, ‘ফলাফলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা আমাদের পরিচয় এবং লড়াই করার মানসিকতা তুলে ধরতে পেরেছি।’
২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ) তাকে বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত করে। বুবিস্তা বিশ্বাস করেন, কেপ ভার্ডের সাফল্য বিশ্বের অন্যান্য ছোট দেশকেও অনুপ্রাণিত করবে।