মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে আওলাদ হোসেন শেখ (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর হত্যা করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫২ দিন পর আওলাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি গরুর খামারের রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা ছিল। গতকাল বুধবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ সুপার জানান, আওলাদ ৯ মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন তার ভাই সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। এরপর ২৩ মে আওলাদের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন, আওলাদের স্ত্রী রানী বেগম, মানিক বেপারীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে ৩১ মে মানিক বেপারীকে আটক করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে রিপন ও বিন আমিন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, তদন্তে জানা গেছে, আওলাদ হোসেনের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু পর রানী বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের মধ্যে সন্তান না থাকায় দাম্পত্য কলহ চলছিল। রানী বেগমের ভগ্নিপতি মানিক বেপারী আওলাদের কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং জমিজমা রানীর নামে লিখে দিতে চাপ দেন। আওলাদ রাজি না হওয়ায় তারা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ মে সন্ধ্যায় মানিক বেপারী আওলাদ হোসেনকে গরুর খামারে ডেকে নেন। সেখানে সাইফুল ইসলাম আওলাদের মাথা চেপে ধরেন এবং মানিক বেপারী কোদাল দিয়ে গলায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ খামারের রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখেন।
গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন– মানিক বেপারী (৩০), সাইফুল ইসলাম (৪২), রিপন (৩৪) ও বিন আমিন শেখ (৩৫)। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।