পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত টোল বাবদ মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঋণের নির্ধারিত ১৬টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে এবং কোনো কিস্তি বকেয়া নেই। এই তথ্য আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়। ওই সমীক্ষা সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পদ্মা সেতু বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এবং ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয়। ২৬ জুন থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারের অর্থ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরের মধ্যে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রতি অর্থবছরে চার কিস্তিতে মোট ১৪০টি কিস্তির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ পর্যন্ত আদায়কৃত টোল থেকে ১৬টি কিস্তিতে মোট ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টোলের ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
বর্তমানে সেতুর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে। আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে ইউনিফায়েড ন্যাশনাল ইটিসি ফ্রেমওয়ার্ক (ইউএনইএফ) এবং অন্যান্য জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।