কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার তিনটি মৌজার নামে বালুমহাল ইজারা নিয়ে মেঘনা নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সীমানা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। গত কয়েক মাস ধরে এভাবে বালু উত্তোলনে এলাকায় বিপর্যয় দেখা দেয়। এর ফলে ক্ষুব্ধ চর-সোনারামপুর গ্রামের মানুষ মঙ্গলবার সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের আয়োজন করেন।
বিক্ষুব্ধরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। বেলা ১২টায় শুরু হওয়া এ অবরোধ আড়াইটা পর্যন্ত চলে। এই সময়ে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর, লুন্দিয়া ও টুকচানপুর মৌজার মেঘনা নদীর বালুমহাল ইজারা দেয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মেসার্স শফিক ট্রেডার্সের অনুকূলে ওয়ার্ক অর্ডারও জারি করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, ইজারাভুক্ত এলাকায় পর্যাপ্ত বালু না থাকায় ইজারাদার প্রতিদিন ভোর থেকে প্রায় পাঁচটি ড্রেজার বসিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বিচারে ড্রেজিংয়ের ফলে চরসোনারামপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা, আশুগঞ্জ বাজার, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, জাতীয় গ্রিডের ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি, কৃষিজমি ও নদীতীর ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে নদীভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে।
চরসোনারামপুরে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। অধিকাংশই মৎস্যজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রতিবছর নদীভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় থাকতে হয় তাদের। বর্তমানে গ্রামের শ্মশান, মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা শিতল চন্দ্র দাস বলেন, "নদী আমাদের জীবিকার উৎস। কিন্তু অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে এখন সেই নদীই আমাদের ঘরবাড়ি কেড়ে নিচ্ছে। আমরা এই অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ চাই।" অন্য এক বাসিন্দা বিপ্লব কুমার সূত্রধর জানান, "ড্রেজারের কারণে নদীর গতিপথ বদলে যাচ্ছে। গ্রামের সামনে গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে।"
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই বালু উত্তোলন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মোস্তফা রেজা জানান, "মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।" আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, "স্থানীয়দের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"