ভেনেজুয়েলায় দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়েছে দেশটি। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ভূমিকম্প দুটির ফলে এ পর্যন্ত ১৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে রাজধানী কারাকাসের কাছে ১৩ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫। বিশ্লেষকরা জানান, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির শক্তি প্রায় ১০০ মিলিয়ন টন টিএনটি বোমার সমান।
শক্তিশালী ভূমিকম্পের দুলুনি রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্ডা, লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফ্যালকন অঙ্গরাজ্যে ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কারাকাস, মিরান্ডা ও লা গুয়াইরা অঞ্চল।
সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত ও মৃতদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত রয়েছে।
ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গা ও সড়কে আশ্রয় নিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর থেকে ২০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ৩ থেকে ৫ মাত্রার আফটারশক অব্যাহত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ব্রাজিল, পানামা, ইকুয়েডর, এল সালভাদরসহ লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।